পলিটি (Polity)

 ডব্লিউবিসিএস (WBCS) বিগত ২০ বছরের পলিটি (Polity) -


১. সংবিধান গঠন ও এর উৎস (Constitution & Sources):

* গ্রহণ ও কার্যকর:ভারতীয় গণপরিষদ (Constituent Assembly) কর্তৃক ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর সংবিধান গৃহীত (Adopted) হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর (Enforced) হয়। 

* সংবিধানের প্রকৃতি: ভারতীয় সংবিধান আংশিক সুপরিবর্তনীয় (Flexible) এবং আংশিক দুষ্পরিবর্তনীয় (Rigid)। ডি.ডি. বসুর মতে, এটি পুরোপুরি ফেডারেল বা পুরোপুরি ইউনিটারি নয়, বরং উভয়ের সংমিশ্রণ।

*সবচেয়ে বড় উৎস: ভারতীয় সংবিধানের সবচেয়ে বড় উৎস হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act 1935)।


২. মৌলিক অধিকার, কর্তব্য ও নির্দেশমূলক নীতি (FR, FD & DPSP):

* **শিক্ষার অধিকার:** ২০০২ সালের ৮৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ৬-১৪ বছরের শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

* **সম্পত্তির অধিকার:** ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

* **মৌলিক কর্তব্য:** ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) যুক্ত করা হয়।

* **গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল:** আর্টিকেল ১৭ (অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ), আর্টিকেল ১৯ (বাকস্বাধীনতা), আর্টিকেল ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা), এবং আর্টিকেল ২৪ (১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কারখানায় কাজ নিষিদ্ধকরণ)।

* **নির্দেশমূলক নীতি (DPSP):** এটি আয়ারল্যান্ড থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এটি আদালতে বিচারযোগ্য নয় (Non-justiciable)। এর মধ্যেই আর্টিকেল ৪০-এ গ্রাম পঞ্চায়েতের উল্লেখ রয়েছে।


**৩. পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা (Panchayati Raj System):**

* **সূচনা ও সাংবিধানিক মর্যাদা:** ১৯৫৯ সালে রাজস্থানে প্রথম পঞ্চায়েতি রাজ শুরু হয়। পরে ১৯৯২ সালের ৭৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে একে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়। 

* **স্তরবিন্যাস:** এটি তিন স্তর বিশিষ্ট: গ্রাম পঞ্চায়েত (নিম্ন স্তর), পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক স্তর) এবং জেলা পরিষদ (উচ্চ স্তর)।

* **লক্ষ্য ও কমিটি:** এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ (Democratic Decentralization)। পঞ্চায়েতকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল বলবন্ত রাই মেহতা কমিটি।

* **তত্ত্বাবধান:** পঞ্চায়েত নির্বাচনের সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতা থাকে রাজ্য সরকারের হাতে। পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষিত।


**৪. গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী (Important Amendments):**

* **৪২তম সংশোধনী (১৯৭৬):** একে 'মিনি কনস্টিটিউশন' বলা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে প্রস্তাবনায় 'সমাজতান্ত্রিক' (Socialist) ও 'ধর্মনিরপেক্ষ' (Secular) শব্দ যুক্ত করা হয় এবং শিক্ষাকে যৌথ তালিকায় (Concurrent List) আনা হয়।

* **৩৬তম সংশোধনী (১৯৭৫):** এর মাধ্যমে সিকিম ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয়।

* **৬১তম সংশোধনী (১৯৮৮):** ভোটাধিকারের বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।

* **৫২তম সংশোধনী:** এটি দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) সাথে যুক্ত।


**৫. রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও পার্লামেন্ট (President, VP & Parliament):**

* **রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:** লোকসভা, রাজ্যসভা এবং রাজ্য বিধানসভার শুধুমাত্র নির্বাচিত (Elected) সদস্যদের দ্বারা গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

* **উপরাষ্ট্রপতি:** তিনি পদাধিকার বলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হন (আর্টিকেল ৬৪) এবং তিনিই একমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার যিনি সেই কক্ষের সদস্য নন।

* **মানি বিল (Money Bill):** মানি বিল শুধুমাত্র লোকসভায় উত্থাপন করা যায় এবং এর জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্বসম্মতির প্রয়োজন। কোনো বিল মানি বিল কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোকসভার স্পিকারের।

* **অ্যাটর্নি জেনারেল:** তিনি পার্লামেন্টের সদস্য না হয়েও এর অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে তার ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।


**৬. বিচারব্যবস্থা (Judiciary):**

* **সুপ্রিম কোর্ট:** ভারতের সংবিধান এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের রক্ষক (Guardian/Protector) ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকর্তা (Final Interpreter) হলো সুপ্রিম কোর্ট।

* **অবসরের বয়স ও নিয়োগ:** সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর এবং হাইকোর্টের ৬২ বছর। রাষ্ট্রপতি এঁদের নিয়োগ করেন। অন্যদিকে জেলা আদালতের (District Court) বিচারকদের নিয়োগ করেন রাজ্যপাল।


**৭. গুরুত্বপূর্ণ কমিশন ও অন্যান্য তথ্যাবলি:**

* **অর্থ কমিশন (Finance Commission):** আর্টিকেল ২৮০ অনুযায়ী গঠিত হয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজস্ব বণ্টনের জন্য প্রতি ৫ বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি এটি গঠন করেন। এতে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য থাকেন।

* **নীতি আয়োগ (NITI Aayog):** কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে গঠিত এটি একটি নন-স্ট্যাট্যুটরি বডি, যা পূর্ববর্তী প্ল্যানিং কমিশনকে প্রতিস্থাপন করেছে।

* **তালিকা (Lists):** শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য যৌথ তালিকার (Concurrent list) অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে কৃষি এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্য তালিকার (State List) অন্তর্ভুক্ত।

* **প্রথম ভাষাগত রাজ্য:** ১৯৫৩ সালে গঠিত অন্ধ্রপ্রদেশ হলো ভাষার ভিত্তিতে গঠিত ভারতের প্রথম রাজ্য।


**ডব্লিউবিসিএস (WBCS) প্রিলিমস পলিটি - সংক্ষিপ্ত নোট**


**১. মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য (Fundamental Rights & Duties):**

* **শিক্ষার অধিকার:** ২০০২ সালের ৮৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ৬-১৪ বছরের শিশুদের শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

* **সম্পত্তির অধিকার:** ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়। 

* **মৌলিক কর্তব্য:** ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে মৌলিক কর্তব্য যুক্ত করা হয়।

* **গুরুত্বপূর্ণ ধারা:** আর্টিকেল ১৭ (অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ), আর্টিকেল ১৯ (বাকস্বাধীনতা), আর্টিকেল ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা) এবং আর্টিকেল ২৪ (১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কারখানায় কাজ নিষিদ্ধকরণ)।


**২. পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা (Panchayati Raj System):**

* ১৯৯২ সালের ৭৩তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়।

* পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর রয়েছে: গ্রাম পঞ্চায়েত (নিম্ন স্তর), পঞ্চায়েত সমিতি (ব্লক বা মধ্যবর্তী স্তর) এবং জেলা পরিষদ (উচ্চ স্তর)।

* পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতে মহিলাদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

* পঞ্চায়েত রাজকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল বলবন্ত রাই মেহতা কমিটি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।


**৩. গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী ও আইন (Important Amendments):**

* **৩৬তম সংশোধনী (১৯৭৫):** সিকিম ভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয়।

* **৪২তম সংশোধনী (১৯৭৬):** প্রস্তাবনায় 'সমাজতান্ত্রিক' (Socialist) এবং 'ধর্মনিরপেক্ষ' (Secular) শব্দ দুটি যুক্ত করা হয়। একে মিনি কনস্টিটিউশনও বলা হয়।

* **৬১তম সংশোধনী (১৯৮৮):** ভোটাধিকারের বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।

* **৫২তম সংশোধনী:** দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) সাথে যুক্ত।


**৪. রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি (President & Vice President):**

* **রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:** রাষ্ট্রপতি লোকসভা, রাজ্যসভা এবং রাজ্য বিধানসভার কেবলমাত্র 'নির্বাচিত' (Elected) সদস্যদের দ্বারা গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ দ্বারা নির্বাচিত হন।

* **রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা:** রাষ্ট্রপতি জাতীয়, রাজ্য এবং আর্থিক— এই তিন ধরনের জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজস্ব বন্টনের জন্য তিনি প্রতি ৫ বছর অন্তর অর্থ কমিশন (Finance Commission) গঠন করেন।

* **উপরাষ্ট্রপতি:** তিনি পদাধিকার বলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হন এবং তিনিই একমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার যিনি সেই কক্ষের সদস্য নন।


**৫. পার্লামেন্ট এবং বিল (Parliament & Bills):**

* **মানি বিল (Money Bill):** মানি বিল শুধুমাত্র লোকসভায় উত্থাপন করা যায় এবং এর জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্বসম্মতি প্রয়োজন। কোনো বিল মানি বিল কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন লোকসভার স্পিকার। মানি বিলের ওপর রাজ্যসভার কোনো কার্যকর ক্ষমতা নেই।

* **রাজ্যসভা (Rajya Sabha):** এটি একটি স্থায়ী কক্ষ যার সদস্যদের মেয়াদ ৬ বছর। এর সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ২৫০ হতে পারে।


**৬. বিচারব্যবস্থা (Judiciary):**

* ভারতের সংবিধান এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের রক্ষক (Guardian) ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকর্তা (Final Interpreter) হলো সুপ্রিম কোর্ট।

* সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি।


**৭. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি:**

* **সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর:** ভারতের সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর গণপরিষদ দ্বারা গৃহীত (Adopted) হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি কার্যকর (Enforced) হয়।

* **প্রথম ভাষাগত রাজ্য:** ১৯৫৩ সালে গঠিত অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের প্রথম ভাষাগত রাজ্য।

* **অর্থ কমিশন (Finance Commission):** আর্টিকেল ২৮০ অনুযায়ী গঠিত হয়। এর প্রধান কাজ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং রাজস্ব বন্টন করা। এতে ১ জন চেয়ারম্যান এবং ৪ জন সদস্য থাকেন।

* **নীতি আয়োগ (NITI Aayog):** এটি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে এবং প্ল্যানিং কমিশনকে প্রতিস্থাপন করেছে। 

* **তালিকা (Lists):** শিক্ষা (Education) এবং জনস্বাস্থ্য যুগ্ম তালিকার (Concurrent list) অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে কৃষি এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্য তালিকার (State list) অন্তর্ভুক্ত।

Comments

Popular posts from this blog

অল্প সময়ে WBSSC Group C&D পুরো সিলেবাস রিভাইজ

ভারতীয় সংবিধান [Set -6]